“দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া”: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমঃ প্রতিদিন যারা বাজারে যান তারা জানেন কীভাবে দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া দেশময় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এই পাগলা ঘোড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জীবনের চাকা সচল রাখতে গিয়ে আজকাল সৎ ও সচ্ছল মানুষের জীবনেও ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। কিন্তু তাতে সরকারের খুব একটা বিকার আছে বলে মনে হয় না। থাকবেই বা কেন? কারন, সরকার তো ব্যবসায়ীদের সরকার। যে ব্যবসায়ীরা মুনাফার স্বার্থে পন্যের বাজার ও তার মূল্য নির্ধারনের নিয়ন্তা। সরকার সেই ব্যবসায়ীদের হাতেই বাজার ছেড়ে দিয়েছে। তারা যেভাবে জিনিসের মূল্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে সরকার সেটিই মেনে নিচ্ছে। তা ছাড়া সরকার নিজেই গ্যাসের দাম, বিদ্যুতের রেইট, ওয়াসার বিল, রেলওয়ের ভাড়া – সবকিছু লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি করে চলেছে। রাষ্ট্র ও সরকারের ভূমিকা যদি এমনটিই হয়, সেখানে অসংগঠিত জনগণের কিই বা আর করার থাকতে পারে। তারা জীবন বাঁচাতে তাদের ‘নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত গায়েবি বাজার নিয়ন্ত্রকদের’ দ্বারা নির্ধারিত দামেই পণ্যসামগ্রী কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

কিন্তু দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়াকে বশ করে জনজীবনে স্বস্তি বজায় থাকুক – এটিই দেশবাসীর সবচেয়ে বড় এবং জীবনঘনিষ্ঠ, জরুরি ও কেন্দ্রিক প্রত্যাশা। সাড়ে চার দশক ধরে কত কিছিমের ও কত মার্কার কত সরকার এলো-গেল। কিন্তু এ পর্যন্ত মানুষের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, হচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে স্থিতিশীল রাখার জন্য কার্যকর নতুন পথের অনুসন্ধান না করে তারা সবাই সেই একই ছাফাই গেয়ে চলেছে।

এক্ষেত্রে তাদের গৎবাঁধা বুলি হলো, ‘বাজার অর্থনীতির’ চলতি ব্যবস্থায় দ্রবমূল্য নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু অর্থনৈতিক-সামাজিক নীতি-দর্শনের ক্ষেত্রে র‌্যাডিকাল পরিবর্তন সাধনের মাধ্যমে তা যে সহজেই করা সম্ভব এবং এমনকি চলতি ব্যবস্থার মধ্যেও কিছু মৌলিক ধরনের পদক্ষেপ দ্বারা তা যে কিছুটা সহনীয় রাখা সম্ভব, সে কথা তারা এড়িয়ে যান।

দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। শায়েস্তা খাঁর আমলে জিনিসপত্রের দাম কী ছিল, আর আজ তা বেড়ে পাহাড়ের কোন চূড়ায় উঠেছে, সে সম্পর্কে দীর্ঘশ্বাস ও খেদোক্তি শুনে আসছি সেই ছেলেবেলা থেকেই। আরও বড় হয়ে যখন থেকে রাজপথে মিছিলে যোগ দিতে শুরু করেছি, এমন মিছিল কমই দেখেছি যেখানে ‘চাল-ডাল-তেলের দাম, কমাতে হবে কমাতে হবে’ এই স্লোগানটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠে উচ্চারিত হয়নি।

দ্রব্যমূল্যের সমস্যাটি শতাব্দী প্রাচীন। আর তা অব্যাহত আছে আজও। রাজত্বের ভাঙাগড়া হয়েছে, দেশ বদল হয়েছে, কত সরকার এসেছে-গেছে, কিন্তু দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার রশি টেনে ধরা সম্ভব হয়নি কখনো।

দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি মানুষের জীবনে যন্ত্রণার একটি উৎস হয়ে দাঁড়ায় কখন ও কী কারণে? মানুষের কাছে তা যন্ত্রণার কারণ হয় তখন, যখন দ্রব্যমূল্য, বিশেষত নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রের মূল্য তার আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিত্তবানদের জন্য দ্রব্যমূল্য প্রত্যক্ষভাবে কখনই তেমন একটা সমস্যা হয় না। কারণ তাদের আয় প্রায় সীমাহীন। জিনিসপত্রের দাম যতই বাড়ুক, সবই তাদের নাগালের মধ্যে থাকে। কিন্তু সাধারণ মানুষ যা আয় করে তা দিয়ে তাকে হিসাব করে জিনিসপত্র কিনতে হয়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা প্রথমত তার আয়ের পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল । সে কারনে ৯৯ শতাংশ স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সব সময় সীমিত থাকে।

জীবনমানের অনেক সূচকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যক সূচক হলো মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। তাদের এই ক্রয়ক্ষমতা একদিকে যেমন তার আয়ের পরিমাণ দ্বারা নির্ধারিত হয়, তেমনি তা একই সঙ্গে নির্ভর করে পণ্যসামগ্রীর বাজারদরের ওপর। মানুষের আয় যতটা বাড়ে, সেই তুলনায় যদি জিনিসপত্রের দাম অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি বৃদ্ধি পায়, তা হলেই তার ক্রয়ক্ষমতা তথা তার ‘প্রকৃত আয়’ কমে যায়। মানুষের এই ‘প্রকৃত আয়’ বৃদ্ধি না পেয়ে যদি একই জায়গায় স্থির হয়ে থাকে তা হলেই শুরু হয় আশাভঙ্গের যন্ত্রণা। আর যদি ‘প্রকৃত আয়’ কমে যায় তা হলে যে মরণযন্ত্রণা নেমে আসে, তার মাত্রার কোনো সীমা-পরিসীসা থাকে না।

আয়ের পরিমাণ ও পণ্যসামগ্রীর বাজারদর – এই দুইয়ের মধ্যে উপযুক্ত সামঞ্জস্য বিধান করতে পারার ওপর নির্ভর করে দ্রব্যমূল্য সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। সত্যি কথা বলতে কী, শায়েস্তা খাঁর আমলে কড়ি-গন্ডা-পাই-পয়সার হিসাবে সংসার সামগ্রীর কেনাবেচা হতো। কিন্তু তাতে কী? এ কথাও মনে রাখতে হবে, সে সময় একজন সাধারণ মানুষের আয় ছিল এখনকার তুলনায় হাজার ভাগেরও কম। পণ্যসামগ্রীর দাম যেমন ছিল কম, সেই অনুপাতে সাধারণ মানুষের আয় ছিল আরও কম। ফলে সাধারণ মানুষের ‘প্রকৃত আয়’ তথা তাদের ক্রয়ক্ষমতার সংকট তখন ছিল আরও তীব্র। পণ্যসামগ্রীর বাজারদর ও মানুষের আয়ের হ্রাস-বৃদ্ধির তুলনামূলক পরিমাপের ওপর নির্ভর করে মানুষের ‘প্রকৃত আয়ের’ অবস্থান ও দ্রব্যমূল্যের যন্ত্রণার মাত্রা। চাল-ডাল-তেল-চিনির দাম যদি পাঁচগুণ বাড়ে তাতে মানুষের কোনো যন্ত্রণাই তেমন থাকবে না যদি তাদের সবার আয় পাঁচগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়।

সব সময় সব যুগে সব জিনিসের দাম বাড়ে, শুধু দাম কমে মানুষের। দ্রব্যমূল্য সমস্যার উৎস হলো এখানেই। দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হলো শ্রমিক, ক্ষেতমজুর, কৃষক, পেশাজীবী, কারিগর, নির্দিষ্ট আয়ের কর্মচারী ইত্যাদি। মেহনতি মানুষের মজুরি বাড়ে না, কৃষক তার ফসলের যুক্তিসঙ্গত দাম পায় না, কর্মচারীদের বেতন দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাড়ে না। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম ক্রমাগতই বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তথা ‘প্রকৃত আয়’ বৃদ্ধি না পেয়ে কমতে থাকে। শুরু হয় দ্রব্যমূল্য নিয়ে মানুষের যাতনা। ‘প্রকৃত আয়’ আগের স্তরে ফিরিয়ে আনতে চলে যায় অনেকগুলো মাস-বছর। ততদিনে জিনিসপত্রের দাম নতুন করে আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়ে তার ‘প্রকৃত আয়’কে আবার পেছনে ফেলে দেয়।

এভাবে দ্রব্যমূল্যের যন্ত্রণা মানুষের জীবনের সঙ্গে আঠার মতো নিরন্তর যুক্ত হয়ে থাকে। তাই দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার যন্ত্রণা থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য মানুষের ‘প্রকৃত আয়ের’ ধারাবাহিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। এটিকেই করতে হবে প্রধান লক্ষ্য।

এ জন্য একই সঙ্গে দুদিক থেকে দ্বিমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, ব্যাপক জনগণের ধারাবাহিক আয় বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দ্রব্যমূল্য এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যেন তা স্থিতিশীল থাকে কিংবা বৃদ্ধি পেলেও তা যেন কখনই কোনোভাবে আয় বৃদ্ধির সাধারণ হারের ঊর্ধ্বে না ওঠে।

এ ক্ষেত্রে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সেগুলো হলো – (ক). সাধারণ মানুষের যুক্তিসঙ্গত আয় নিশ্চিত করার জন্য –
১. সংগঠিত, অসংগঠিত শ্রমিক, ক্ষেতমজুরদের জন্য যুক্তিসঙ্গত জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও তার প্রদান নিশ্চিত করা এবং মজুরি কমিশনের মাধ্যমে মজুরির হার নির্ধারণ করা। জাতীয় ন্যূনতম মজুরি এবং মজুরির হার বছর বছর এমনভাবে বৃদ্ধি করা যেন তা বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হারের চেয়ে বেশি হয়।
২. অনুরূপ নিয়মে কর্মচারীদের জন্য বেতন কমিশনের ব্যবস্থা করা। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৫ কিংবা নিদেনপক্ষে ১:৬ এর মধ্যে রাখা। ৩. ক্রমবর্ধমান ধনবৈষম্য ও শ্রেণিবৈষম্য নিরসনের অনুকূলে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

(খ.) দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য
১. নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য, বিশেষত দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছ ছবিসহ রেশন কার্ড প্রদানের ব্যবস্থা করা। এই দরিদ্র মানুষদের জন্য রেশনে কন্ট্রোল দামে চাল, গম, তেল, ডাল, চিনি এবং প্রয়োজনমতো অন্যান্য অত্যাবশক পণ্য সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রদান করা।
২. রাষ্ট্রীয় সহায়তায় ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু করা এবং ক্রেতা-সমবায় সমিতি সংগঠিত করে দেশব্যাপী তার বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
৩. মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে উৎপাদক কৃষক ও ক্রেতাসাধারণকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সহায়তায় একদিকে ‘ভোক্তা সমবায় সমিতি’ এবং অন্যদিকে ‘উৎপাদক সমবায় সমিতি’ গড়ে তোলা এবং এই দুই সংস্থার মধ্যে সরাসরি সংযোগ ও লেনদেনের ব্যবস্থা করা।
৪. বিএডিসির কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করে সারাদেশে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ যন্ত্রপাতিসহ কৃষি উপকরণ ন্যায্যমূল্যে এবং সময়মতো খোদ কৃষকের কাছে সরাসরি সরবরাহের ব্যবস্থা করা।
৫. পণ্য পরিবহনে দুর্নীতি, হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা। একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধনসহ হাটবাজারে ইজারাদারি ব্যবস্থা ও তোলা আদায়ের অত্যাচার বন্ধ করা।
৬. টিসিবির কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে অত্যাবশ্যক পণ্যসামগ্রীর আমদানি, মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা।
৭. রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে খাদ্যদ্রব্যসহ অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যসামগ্রীর বাফার স্টক গড়ে তোলা। ৮. পাইকারি ও খোলাবাজারে পণ্যমূল্য তদারকির জন্য ‘মূল্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ (Price Regulatory Authority) প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি উপযুক্ত ‘ক্রেতাস্বার্থ সংরক্ষণ আইন’ প্রণয়ন করা।
৯. আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওপেন মার্কেট সেল, মার্কেটিং অপারেশন, টেস্ট রিলিফ, কাজের বিনিময় খাদ্য (কাবিখা) প্রভৃতি কর্মসূচিসহ যে কোনো আপৎকালীন দ্রুততার সঙ্গে ‘ঝটিকা কার্যক্রম’ পরিচালনার প্রস্তুতি রাখা।
১০. পৃথক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে গ্রাম-শহরসহ সারাদেশে সাশ্রয়ী, দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত ‘গণবণ্টন ব্যবস্থা’ (Public Distribution System) চালু করা।
১১. বিলাসদ্রব্য আমদানি কিছু সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করা।
১২. পাইকারি ও খুচরা বাজারে রাষ্ট্রের প্রভাব-সক্ষমতা সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে এ বাজারগুলোতে প্রত্যক্ষ রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের উপযুক্ত ব্যবস্থা ও কার্যক্রম চালু করা।
১৩. বাজারের ওপর মুনাফাশিকারি লুটেরাদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ খর্ব করা। ‘অবাধ খোলাবাজার অর্থনীতির’ দর্শন ও ‘মার্কেট ফান্ডামেন্টালিজম’-এর নীতি থেকে বের হয়ে আসা।
এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে রাষ্ট্রকে এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরকারকে। এই পথ আমরা গ্রহণ করেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের পর। কিন্তু সেই পথ থেকে দেশ আজ বিচ্যুত। প্রায় চার যুগ ধরে দেশ চলছে এর বিপরীত ধারায়।
উল্টো ধারার এই গণবিরোধী অর্থনৈতিক নীতি ও দর্শনে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। ‘বাজার মৌলবাদ’ (Market Fundamentalism)-এর অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ‘ব্যবসার ব্যাপারে নাক গলানো সরকারের কাজ নয়’ (Government has no business to do business) – এই ‘নয়া-উদারবাদী’ পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী মতবাদ পরিত্যাগ করতে হবে। ‘বাজারই বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে’ – এই নীতি অনুসরণ করে চললে এবং বাজারের ওপর মুনাফালোভী লুটেরাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ মেনে নিলে বাজারের অন্ধ কালো শক্তির কাছে দেশবাসীকে সব সময় জিম্মি হয়ে থাকতে হবে। এ ধরনের গণবিরোধী নীতি পরিত্যাগ করে বাজারের ওপর জনগণের গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমেই কেবল দ্রব্যমূল্যের যন্ত্রণা থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব।

লেখক-মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *