ফুলছড়ির ব্রহ্মপুত্র নদীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐহিত্যবাহি গঙ্গাস্নান মেলা

ফুলছড়ির ব্রহ্মপুত্র নদীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐহিত্যবাহি গঙ্গাস্নান মেলা

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ লাখো পূণ্যার্থীর ঢলে মুখরিত হয়েছে গাইবান্ধা ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদীতে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের গঙ্গাস্নান মেলা শনিবার অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন প্রত্যুষে ব্রহ্মপুত্র নদীতে স্নান করে এবং সেখানে ঈশ্বরের কাছে ধ্যানে-জ্ঞানে-মনমগ্নে ঈশ্বরকে আরাধনা করেন ও ঈশ্বরের অনুরাগী হন। ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নান সম্পন্ন হয়েছে। “হে মহা ভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য, তুমি আমার পাপ হরণ করো” মন্ত্র উচ্চারণ করে পূণ্যার্থীরা স্নান উৎসবে মেতে উঠেন। গতকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো লাখো পূণ্যার্থীরা ভিড় জমান চিলমারী বন্দর, রাজারভিটা, পুটিমারী কাজলডাঙ্গার ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও দিনব্যাপী ব্রহ্মপুত্র নদীর পাড়ে ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাস্নান মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে নদীর পাড়ে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের গঙ্গাদেবীর পূজার আয়োজন করা হয়। হিন্দু পুণ্যার্থী নদীতে স্নান সেরে গঙ্গা দেবীর পূজা অর্চনা করে। মেলা উপলক্ষে নদীর পাড়ে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী চারুকারু পণ্য, মাটির খেলনা, গ্রামীণ মেলা সম্পর্কিত খাদ্য সামগ্রী বিক্রয়ের জন্য দোকান বসে। এছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্য নাগরদোলাসহ বিভিন্ন খেলারও আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ এই মেলা উপভোগ করতে এবং পণ্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য মেলায় ভিড় করে। উল্লেখ্য, মেলায় হিন্দু ধর্মালম্বীরা একে অপরের মিলন মেলায় একিভূত হন। সকল হিংসা বিদ্বেষ ভুলে এক জায়গায় স্নান করেন। গঙ্গা স্নান মানে বুঝায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাপমোচন। জন্মলগ্ন থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত জীবনে যত অন্যায়-অত্যাচার-অবিচার তা মোচনের লক্ষে হিন্দুরা সারি বেঁধে ব্রহ্মপুত্র নদীতে গিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও গঙ্গাস্নান বা মিলন মেলায় দলবদ্ধ হন। সেখানে উপাসনা করেন। হিন্দুদের এই গঙ্গাস্নান ঐতিহ্যবাহী। হিন্দুরা যুগযুগ ধরে সত্যযুগ থেকে কলি অবতার পর্যন্ত এই গঙ্গাস্নান করে আসছেন। সেখানে পুলিশ প্রশাসন উপজেলা প্রশাসন যথেষ্ট সহযোগিতা করেন এবং স্থানীয় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাড. ফজলে রাব্বী মিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা গঙ্গাস্নান মেলা পরিদর্শন করেন এবং তাদের খোঁজ খবর নেন। কোন নির্দিষ্ট ঘাট না থাকায় উমুক্ত স্নানঘাটের মাধ্যমে পূণ্যার্থীরা স্নানপর্ব সম্পন্ন করেছেন। এ দিকে স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে দুইদিন ব্যাপী লোকজ মেলা। স্নান উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সরকারী ও বেসরকারী ভাবে নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *