বড়পুকুরিয়ায় কয়লা উত্তোলন শুরু

বড়পুকুরিয়ায় কয়লা উত্তোলন শুরু

আল মামুন মিলন, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ (বিসিএমসিএল) চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া টাকা পরিশোধ করে দেওয়ায় বিদেশী শ্রমিকরা শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার শিফট থেকে কাজে যোগদান করেছে এবং নতুন ফেইস ১৩০৮ থেকে পুরোদমে কয়লা উত্তোলন চলছে বলে জানানো হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে বকেয়া টাকা আদায়ের দাবিতে ফেব্রুয়ারির শেষার্ধ থেকে উৎপাদন কাজে অনিহা প্রকাশ করতে থাকে চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়াম। ১লা মার্চ থেকে কয়লা উত্তোলনের দিনক্ষন নির্ধারণ করা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কয়লা উত্তোলন থেকে বিরত হয়ে টাকা আদায়ে ক্ষুব্ধ অবস্থান নেয়। এই প্রথম প্রায় ২০০ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়াম কয়লা উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ বোর্ড মিটিংয়ে সব মিটমাট হওয়ায় চীনা শ্রমিকরা তাদের অনঢ় অবস্থান থেকে সরে গিয়ে কাজে যোগদান করে। জানান হয়েছে রাতের ১ম শিফটে চীনা ও দেশীয় শ্রমিকরা উল্লেখযোগ্য পরিমান কয়লা উত্তোলন করেছে।
উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া খনির চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়াম বর্তমানে তৃতীয় দফা চুক্তির আওতায় ২০১৭ সালের ১১ আগস্ট থেকে কয়লা উত্তোলন করে আসছিল। এর আগে দ্বিতীয় দফা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসের উৎপাদন বিলের ১০ শতাংশ কর্তন করে বিল পরিশোধ করা হতো। ঠিকাদার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সময়মতো কয়লা উত্তোলন করলে চুক্তি মেয়াদ শেষের ৬ মাসের মধ্যে কর্তনকৃত টাকা ফেরত দেয়া হত।দ্বিতীয় দফা চুক্তির আওতায় ৭২ মাসে ৫.৫ মিলিয়ন টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৬ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদন করে। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারের বকেয়া পাওয়া পরিশোধে গড়িমসি দেখা দেয়। এ অবস্থায় অর্থ সংকটে পড়ে এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়াম ১ মার্চ থেকে নতুন ১৩০৮ নম্বর কোল ফেস হতে কয়লা উত্তোলনের কথা থাকলেও উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৫ সালে বাস্তবায়ন করে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি-এক্সএমসি। শুরু থেকেই খনিটির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে আসছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়াম। এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়াম তৃতীয় দফা চুক্তির আওতায় ২০১৭ সালের ১১ আগস্ট থেকে কয়লা উত্তোলন করে আসছে। ঠিকাদার ৪ বছরে প্রায় ২৫৮ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ৩২ লাখ ৫ টন (৩.২০৫ মিলিয়ন টন) কয়লা উত্তোলন করে দেবে। এর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা ১৮২.৪৩ মিলিয়ন ডলার ও দেশীয় মুদ্রা প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার (৬১৩১.৪৩ মিলিয়ন টাকা) রয়েছে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *